হার দিয়ে আসর শুরু করলেও চলমান বিপিএলে উড়ছে রংপুর রাইডার্স। এখন পর্যন্ত নয় ম্যাচ খেলে সাত জয় নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে রয়েছে সাকিব-মাহেদীরা। নবম ম্যাচে খুলনা টাইগার্স নিয়ে রীতিমতো ছেলে খেলা করেছে রংপুর। বিজয়ের দলকে ৭৮ রানে বিধ্বস্ত করেছে সোহানের দল।
এদিন চলতি বিপিএলে নিজের সেরা ইনিংসটি খেলে ফেললেন সদ্য বিদায়ী টাইগার অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। নিজের দুঃসময় পেরিয়ে আজ তিনি দুইশ পেরোনো স্ট্রাইকরেটে ব্যাট করেছেন। যার ওপর ভর করে ২১৯ রানের বড় সংগ্রহ পেয়ে যায় রংপুর রাইডার্স। পরবর্তীতে বল হাতে তাণ্ডব চালিয়েছেন ইমরান তাহির। তার ৫ শিকারে খুলনা টাইগার্স মাত্র ১৪১ রানে গুটিয়ে গেছে।
এ নিয়ে চলতি বিপিএলে টানা ষষ্ঠ ম্যাচে জিতল রংপুর। যা পয়েন্ট টেবিলে তাদের শীর্ষস্থান আরও মজবুত করেছে। অন্যদিকে টানা চতুর্থ হারে সেমিফাইনালে ওঠার পথ আরও কঠিন করে তুলল এনামুল হক বিজয়ের খুলনা।
আগে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে রংপুরের হয়ে ইনিংস শুরু করতে নামেন রনি তালুকদার ও রেজা হেনড্রিক্স। শুরুটা ভালো করতে পারেননি এই দুই ওপেনার। দুই ওপেনার ফেরেন দ্রুত। লুক উডের বলে পরাস্ত হওয়ার আগে রনি তালুকদার ৫ ও রেজা হেনড্রিকস ৪ রান করেন। দলীয় ২৪ রানে দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে রংপুর।
কিন্তু চতুর্থ উইকেটে শেখ মাহেদীকে সঙ্গে নিয়ে ব্যাটিংয়ে তাণ্ডব শুরু করে টাইগার অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। নাসুমের এক ওভারেই তোলেন ২৬ রান। এতে ২০ বলে ফিফটি তুলে নেন তিনি। যা চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত দ্রুততম ফিফটি। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন মাহেদী।
দলীয় ১৩৩ রানে ৩১ বলে ৬৯ রান করে আউট হন সাকিব। এতে ভাঙে এই দুই জনের জুটি। অন্যপ্রান্তে মাহেদী হাসানও পান ফিফটির দেখা। ৩৬ বলে ৬০ রান করেন এই তরুণ অলরাউন্ডার। শেষদিকে সোহানের ৩২ ও প্রিটোরিয়াসের ১৭ রানের দুই অপরাজিত ক্যামিও ইনিংসে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২১৯ রানের সংগ্রহ পায় রংপুর। খুলনার হয়ে বল হাতে সর্বোচ্চ তিন উইকেট নেন উড।
রংপুরের দেওয়া ২২০ রানের বড় লক্ষ্য তাড়ায় হোঁচট খেয়েই শুরুটা করেছিল খুলনা। দলীয় মাত্র ১৮ রানে তারা ওপেনার এভিন লুইসের উইকেট হারায়। বলতে গেলে তাদের হয়ে হেলস ছাড়া আর কোনো ব্যাটার বেশিক্ষণ ক্রিজে থিতু হতে পারেননি। ব্যাটিং উইকেটেও ডানহাতি ঘূর্ণিতে তাদের কাবু করেছেন লেগস্পিনার ইমরান তাহির। ৪ ওভারে মাত্র ২৬ রান খরচায় তিনি ৫ উইকেট শিকার করেন।
হেলস যতক্ষণ ক্রিজে ছিলেন, ততক্ষণ আশা ছিল খুলনার। শুরুতে দুই উইকেট হারালেও সাবেক এই ইংলিশ ব্যাটারই তাদের পথ দেখিয়েছিলেন। কিন্তু ৩৩ বলে ৭টি চার ও ৩টি ছক্কায় তার ৬০ রানের ইনিংসটি থামতেই মুখ থুবড়ে পড়ে খুলনার ব্যাটিং লাইনআপ। বিজয়ের দলের আর কেউ সেই বিপর্যয় সামলাতে পারেননি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে তারা থেমেছে ১৪১ রানে। খুলনার হয়ে বল হাতে ৩ উইকেট শিকার করা লুই উড দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২০ রান করেন ১৪ বলে।
তাহির ছাড়া রংপুরের হয়ে ২ উইকেট পেয়েছেন সাকিব। একটি করে শিকার ধরেছেন জেমস নিশাম, হাসান মাহমুদ ও শেখ মেহেদী।